মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ন
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ওই রুটের যাত্রীদের সুবিধার্থে বিকল্প হিসেবে ‘ট্রান্সশিপমেন্ট পরিকল্পনা’ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।
তিনি জানান, রেল চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের ট্রেন পরিবর্তনের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন রুটের একাধিক ট্রেন দিয়ে ট্রান্সশিপমেন্ট পরিচালিত হবে। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও একতা এক্সপ্রেস—এই দুটি ট্রেন ব্যবহার করে ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে ট্রান্সশিপমেন্ট করা হবে। একইভাবে দ্রুতযান ও একতা ট্রেন দিয়েও একই রুটে চলাচল নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া সীমান্ত ও রুপসা এক্সপ্রেস ট্রেন দিয়ে খুলনা ও নীলফামারীর মধ্যে ট্রান্সশিপমেন্ট পরিচালনা করা হবে। পার্বতীপুর স্পেশাল এবং বাংলাবান্ধা বা কাঞ্চন ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকা-পার্বতীপুর রুটেও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস দিয়ে রাজশাহী-চিলাহাটি রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় আনা হয়েছে।
৭৯৭ নম্বর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ভায়া বগুড়া হয়ে কুড়িগ্রাম চলাচল করবে। ৮০৪ নম্বর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস আক্কেলপুর-রাজশাহী এবং ৮০৩ নম্বর বাংলাবান্ধা-রাজশাহী-পঞ্চগড় রুটে চলবে। তবে আগামীকালের ৮০৪ নম্বর বাংলাবান্ধা-পঞ্চগড়-রাজশাহী রুটের যাত্রা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
লাইনচ্যুত হওয়া নয়টি কোচ উদ্ধারে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত ট্রান্সশিপমেন্ট পদ্ধতিতে যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলে ট্রেন পরিবর্তন করে যাতায়াত করবেন।
এর আগে বুধবার দুপুর প্রায় দুইটার দিকে বগুড়ার সান্তাহারে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।